হিলফুল ফুযূল সামাজিক সংঘ
হিলফুল ফুযূল
সামাজিক সংঘ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম — হিলফুল ফুযূল সামাজিক সংঘের ওয়েবসাইটে আপনাকে স্বাগতম।
প্রজেক্ট খুঁজুন

বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত ইসলামের নির্দেশনা

28/06/2026 ·Super Admin
বৃক্ষরোপণ সংক্রান্ত ইসলামের নির্দেশনা
পবিত্র কুরআন এবং হাদিসের সুনির্দিষ্ট রেফারেন্সসহ বৃক্ষরোপণ, চাষাবাদ ও পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. পবিত্র কুরআনের রেফারেন্স
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা উদ্ভিদ, ফলমূল সৃষ্টি এবং বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত জমিনকে জীবিত করার বিষয়টিকে তাঁর অন্যতম বড় নেয়ামত ও নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন:

সূরা আন-নাহল, আয়াত ১০-১১:

"তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, যা তোমরা পান করো এবং তা থেকে উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, যাতে তোমরা পশু চারণ করো। তিনি এর দ্বারা তোমাদের জন্য উৎপাদন করেন শস্য, জয়তুন, খেজুর, আঙুর এবং সর্বপ্রকার ফলমূল। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।"

সূরা আল-আনাম, আয়াত ৯৯:

"তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, তারপর তা থেকে সবুজ পাতা বের করেছি, যা থেকে আমি ঘন সন্নিবিষ্ট শস্যদানা উৎপন্ন করি এবং খেজুর গাছের মাথি থেকে ঝুলন্ত কাঁদি বের করি, আর আঙুর, জয়তুন ও ডালিমের বাগান সৃষ্টি করি..."

সূরা আবাসা, আয়াত ২৪-৩২:

"মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। আমিই প্রচুর পানি বর্ষণ করি। অতঃপর আমি জমিকে দারুণভাবে বিদীর্ণ করি এবং তাতে উৎপন্ন করি শস্য, আঙুর, শাকসবজি, জয়তুন, খেজুর, ঘন উদ্যান, ফলমূল ও ঘাস—তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগের জন্য।"

২. হাদিস শরিফের রেফারেন্স
রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বাণী ও কর্মের মাধ্যমে গাছ লাগানোকে ইবাদত এবং পরকালের সম্বল হিসেবে ঘোষণা করেছেন:

সদকা বা দান হিসেবে গণ্য হওয়া:

হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি কোনো মুসলমান একটি বৃক্ষ রোপণ করে অথবা কোনো শস্য বুনে, আর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু ভক্ষণ করে, তবে তা তার জন্য সদকা (দান) হিসেবে গণ্য হবে।" (সহীহ বুখারী, হাদিস নম্বর: ২৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বর: ১৫৫৩)

কেয়ামতের মুহূর্তেও চারা রোপণের নির্দেশ:

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্ত এসে উপস্থিত হয় এবং তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে দেয় (যদি সে তা রোপণ করার সময় পায়)।" (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নম্বর: ১২৯০২; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নম্বর: ৪৭৯)

জান্নাতে বৃক্ষলাভের পুরস্কার:

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার চারা রোপণ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, "হে আবু হুরায়রা! আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম রোপণের কথা বলব না? তুমি বলো—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার; এর প্রতিটির বিনিময়ে জান্নাতে তোমার জন্য একটি করে গাছ রোপণ করা হবে।" (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর: ৩৭৮১)

অযথা বৃক্ষ নিধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা:

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হাবশি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি (অন্যায়ভাবে বা বিনা প্রয়োজনে) কোনো কুল গাছ (বা ছায়াদানকারী গাছ) কাটবে, আল্লাহ তাকে মাথা উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।" (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নম্বর: ৫২৪১)

(উদ্ধৃতি ব্যাখ্যা: যেখানে মানুষ বা পশুপাখি আশ্রয় নেয়, তেমন ছায়াদানকারী গাছকে ধ্বংস করার বিরুদ্ধে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে)।

যুদ্ধের ময়দানেও গাছ কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা:

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) যখন সিরিয়ার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী পাঠাচ্ছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে সেনাপতিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন: "...তোমরা কোনো ফলবান বৃক্ষ কাটবে না, কোনো শস্যক্ষেত পুড়িয়ে দেবে না এবং কোনো গবাদিপশু জবাই করবে না (খাদ্যের প্রয়োজন ছাড়া)।" (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নম্বর: ৯৬৫)

মূল শিক্ষা:
ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গাছ লাগানো মানে কেবল প্রকৃতির সেবা নয়, বরং এটি একটি সদকায়ে জারিয়া (প্রবহমান দান)। গাছটি যতদিন বেঁচে থাকবে, ফল দেবে বা ছায়া দেবে, রোপণকারী ব্যক্তি পৃথিবীতে বেঁচে না থাকলেও তার আমলনামায় সওয়াব যোগ হতে থাকবে।

আরো পড়ুন

← সব পোস্টে ফিরুন